যে ৬টা কারণে অলিম্পিয়াড গুলোতে অংশগ্রহণ করা উচিত হবে না

Science Olympiad, Science Olympiad 2022, NSO 2022, BAS FISBL NSO 2022


Virtual জগতে একটা শিক্ষার্থীর মনন বিকাশের জন্য অনেক উপাদান আছে। সেখানে এমন অনেক কিছু আছে যার সাহায্যে সে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারে, নিজের আগ্রহের বিষয়গুলো সম্পর্কে খুঁটিনাটি অনেক কিছু জেনে নিতে এবং শিখে নিতে পারে। ইন্টারনেট এ রয়েছে এমন অনেক রিসোর্সেস। শিক্ষার্থীর কাজ শুধু খুঁজে বের করা। তবে তারা শুধুমাত্র তাদের আগ্রহের বিষয়ে তারা কতটুকু দক্ষ হতে পেরেছে সেটার মূল্যায়ন করলে কেমন হয়? এ কথা সত্য যে আমাদের স্কুল কলেজের পরীক্ষাগুলো আগ্রহের দিকটা মূল্যায়ন করতে সক্ষম। তবে তার সাথে এও সত্য যে, স্কুল কলেজের পরীক্ষাগুলো দক্ষতার সাথে সেটা মূল্যায়ন করতে পারে না। স্কুল কলেজের পরীক্ষাগুলো আগ্রহের বিষয়গুলো খুঁজে পেতে সাহায্য করে, কিন্তু সেই বিষয়গুলোর দক্ষতা পরিমাপের বিষয়ে তার পারদর্শিতা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। তাই আমাদের এমন কোনো মূল্যায়ন ব্যবস্থা দরকার যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহের বিষয়গুলোর দক্ষতা মূল্যায়ন করতে পারবে। আর সে জন্যেই মনে হয় অলিম্পিয়াড গুলোর সূচনা। বাহারি রকমের বিষয়াদির জন্য বাহারি রকমের অলিম্পিয়াড রয়েছে। এদের নামগুলোও অন্যরকম। একটার নাম গণিত অলিম্পিয়াড, যেটা গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করে। আবার আরেকটার নাম ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড, যেটা আবার প্রোগ্রামিং নিয়ে করবার করে। একটা আছে, সাইন্স অলিম্পিয়াড। এটা বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ মূল্যায়ন করে। এগুলো ছাড়াও আরো অনেক রকম অলিম্পিয়াড আছে যেগুলো একেকটা বিষয়ের উপর কাজ করে। এইসকল অলিম্পিয়াড গুলোতে কেউ কেনো অংশগ্রহণ করবে সেটা নিয়ে অনেক কথা বার্তা আছে। অলিম্পিয়াড গুলোতে অংশগ্রহণ করলে নিঃসন্দেহে যে কেউ ভালো কমিউনিটি তৈরি করতে পারবে। নতুন মানুষদের সাথে মিশে নতুন কিছু অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে। এগুলোর মূল্য কিন্তু কম নয়। এত কিছুর পরও এমন অনেক কারণ আছে যেগুলোর জন্য অলিম্পিয়াড গুলোতে অংশগ্রহণ করা উচিত হবে না। এই লেখায় সেগুলো নিয়েই আলোচনা করা হবে।

অহংকার বা দাম্ভিকতা থাকলে:

তোমার মধ্যে অহংকার বা দাম্ভিকতা থাকলে তোমার উচিত হবে না যে তুমি অলিম্পিয়াড গুলোতে অংশগ্রহণ করো। তুমি জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে থাকো বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়ে থাকো, কোনো অবস্থাতেই তোমার অহংকার করা উচিত হবে না। অহংকার করলে তুমি নিজেকে বড় মনে করতে থাকবে। তোমার মধ্যে overconfidence চলে আসবে। তুমি ঠিকভাবে প্রাকটিস করবে না কারণ তুমি মনে করবে, এখানে কি কেউ আমার মতো করে প্রিপারেশন নিয়েছে নাকি, আমি তো সহজেই পারবো। এই ধরনের মনোভাব থাকলে তুমি কিভাবে পারবে? বস্তুত, যারা অলিম্পিয়াডে ভালো করে তারা মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি খুব পরিশ্রমী হয়। তারা একটা প্রবলমকে পাগলা কুকুরের মতো করে attack করে। তোমার মধ্যে অহংকার থাকার দরুন এমন মনোভাব আসলে তুমি তো নিশ্চই ভালো করতে পারবে না।

সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করলে:

দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, বাংলাদেশে এ+ কে সব কিছু মনে করে এমন মানুষ নেহায়েত কম নয়। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা ক্লাস roll কে অনেক বড় কিছু মনে করে। তুমি অলিম্পিয়াড গুলোতে যতই ভালো করো না কেনো এই শ্রেণীর মানুষজন তোমার উপর কখনোই খুশি হবেন না। তুমি যদি এদেরকে খুশি করতে যাও, তবে খুব সম্ভাবনা আছে যে তুমি অলিম্পিয়াডের জন্য ভালোভাবে প্রিপারেশন নিতে পারবে না। আবার অলিম্পিয়াডের জন্য ভালোভাবে প্রিপারেশন নিতে গেলে বড় রকমের সম্ভাবনা আছে যে তুমি স্কুল পরীক্ষায় ভালো করতে পারছো না! বলা বাহুল্য, সেটা করতে হলে তোমাকে অসম্ভব রকমের পরিশ্রমী হতে হবে। যদিও বলা হয়, স্কুল কলেজের সিলেবাস এবং বইয়ে যা আছে সব পড়তে হবে, হয় সেটা পরীক্ষায় আসুক আর না আসুক, base মজবুত করার জন্য পড়তে হবে। তারপর base শক্ত হলে প্রবলেম সলভিং এর দিকে মনোযোগী হতে হবে। এর সাথে এও বলা হয়, মোটামুটি কেউ ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ভালোভাবে পড়লে প্রবলেম সলভিং এর দিকে মনোযোগী হতে পারবে। এত কিছুর পরও, যেখানে তোমার স্বপ্ন জুড়ে রয়েছে অলিম্পিয়াডে ভালো করে নিজের মেধার প্রমাণ দেওয়া, সেখানে ফোকাস করতে গিয়ে তুমি খুব সম্ভবত স্কুল কলেজের পরীক্ষাগুলোতে সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারবে না। আর সেটা হলে এক ধরনের মানুষজন তোমার উপরে কখনোই খুশি হবেন না যতক্ষণ না তুমি তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর মতো কিছু একটা করতে পারছো। তাই তুমি যদি সকলকে খুশি করার চেষ্টা করতে থাকো এবং বড় রকমের পরিশ্রম করার মানসিকতা না রেখে থাকো, তবে তোমার অলিম্পিয়াডে পার্টিসিপেট না করা-ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করতে থাকলে:

এইটা অনেক বাজে একটা অভ্যাস। কারণ, তুমি অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করেছো অন্যকে পেছনে ফেলার জন্য। এতে দেখা যাবে যখন অন্যরা তোমার থেকে ভালো করছে না, তখন তুমি পরিশ্রম করাই বাদ দিয়ে দেবে। আবার অন্যরা যখন তোমার থেকে ভালো করবে, তখন তুমি অবশ্যই চাইবে যে তাদের থেকে ভালো করতে। কিন্তু তুমি নিজে ভালোভাবে প্রিপারেশন নিতে পারবে না। কারণ, তুমি নিজের প্রিপারেশন এর দিকে মনোযোগ না দিয়ে অন্যের গোয়ালে ধোঁয়া দিতে থাকবে, মানে অন্যরা কী করলো সেই খোঁজ খবর বেশি নিতে থাকবে। আর ভালোভাবে প্রিপারেশন না নিকে তুমি কখনোই ভালো করতে পারবে না। ফলে, কেউ তোমার থেকে ভালো করুক বা না করুক, তুমি কখনোই নিজের অবস্থান থেকে ভালো করতে পারছো না। তাই, এই ধরনের মনোভাব তোমার মধ্যে থাকলে তোমার উচিত হবে না যে তুমি কোনো অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করো।

অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে randomly participate করতে থাকলে:

নিজের যদি আগ্রহ না থাকে তবে কেউ কোথাও ভালো করতে পারে না। সে অলিম্পিয়াডে হোক, আর অন্য কোথাও-ই হোক। তুমি হয়তো শুনেছ যে ম্যাথ অলিম্পিয়াডে এইটা হয়, ঐটা হয়... আর এত কিছু শুনে তুমি ম্যাথ অলিম্পিয়াডে পার্টিসিপেট করলে যেখানে তোমার ম্যাথ করতে ভালো লাগে না, ম্যাথ নিয়ে চিন্তা করতে ভালো লাগে না। এরকম হলে চোখ বুজে বলে দেওয়া যায় যে তোমার ম্যাথ অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করা উচিত হয় নাই। একই কথা অন্য অলিম্পিয়াডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

লেগে থাকার মনোভাবের অভাব থাকলে:

অলিম্পিয়াডে ভালো করতে হলে তোমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে, অনেক প্রাকটিস করতে হবে। তোমাকে নতুন নতুন প্রবলেম সলভ করতে হবে। এক কথায় অনেক ভালো করে প্রাকটিস করতে হবে। কিন্তু তুমি যদি আজকে প্রাকটিস করে কালকেই বাদ দাও আর বসে বসে চিন্তা করতে থাকো যে কী করবে, তবে তোমার দ্বারা কিছুই যে হবে না - সেটা নিশ্চিত হয়ে থাকতে পারো।

System এর দিকে নজর না দিয়ে goal এর দিকে নজর দিলে:

এইটা অনেক weird একটা টপিক। কারণ, এর জন্য সিস্টেম এবং গোল সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা দরকার। সিস্টেম হচ্ছে সেই প্রসেস বা প্রক্রিয়া যা তোমাকে রেজাল্ট এনে দিবে। আর গোল হচ্ছে সেই রেজাল্ট যা তুমি পেতে চাচ্ছো। তুমি যদি অলিম্পিয়াডে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেতে চাও, তবে তোমার গোল হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়া এবং এর জন্য কী কী করছো (পড়াশোনা + problem solving + ...) সেটা তোমার সিস্টেম। বলে রাখা ভালো, গোল এর দিকে নজর দেওয়া মানে goal achieve করার জন্য দেহ, প্রাণ এক করে কাজ করতে থাকা। আর সিস্টেম এর দিকে ফোকাস করা মানে goal achieve করার জন্য কী কী করতে হবে সেটা ঠিক করা, বা ব্যাপক অর্থে, কাজ করার জন্য কাজ করা। তুমি যদি ঠিকভাবে পরিশ্রম করতে না থাকো, তবে তোমার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। তোমার টার্গেট থাকতে পারে যে তুমি কোনো এক অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ে যাবে। এর জন্য তুমি প্রিপারেশন নিচ্ছো। কিন্তু তুমি খেয়াল করে দেখো, তুমি যদি জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে থাকো, তুমি কি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেতে পারবে? তার সম্ভাবনা অনেক কম কারণ তুমি তো জাতীয় পর্যায়ের জন্য প্রিপারেশন নিয়েছিলে। কিন্তু তুমি যদি সিস্টেম এর দিকে নজর দিতে, তবে খুব সম্ভবত তুমি সেটা পারতে। তুমি যে পারতেই, সেটা বলছি না, পারার একটা বড় সম্ভাবনার কথা বলছি। Goal এর দিকে নজর দিলে তোমার আনন্দ অনেক কমে যায়। কারণ তোমার মধ্যে তাড়া দিতে থাকে যে ওই পর্যায়ে তোমাকে পৌঁছাতে হবে। সে পর্যায়ে পৌঁছানো না পর্যন্ত তোমার মধ্যে সন্তুষ্টি কাজ করবে না। কিন্তু তুমি যদি সিস্টেম এর দিকে নজর দিতে, তবে তুমি যেকোনো সময় খুশি হতে পারো। কারণ, তখন তখন তোমাকে খুশি হওয়ার জন্য বড় কিছু করতে হচ্ছে না। তুমি গোল এর দিকে নজর দিলে জাতীয় পর্যায়ে যাওয়ার আগে খুশি হতে পারবে না। আর সিস্টেম এর দিকে ফোকাস করলে একটা প্রবলেম সলভ করতে পারলেই তুমি খুশি হয়ে যেতে পারবে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এইটাই যে গোল এর বদলে সিস্টেম এর দিকে নজর দিলে সফলতা আসবে তো? উত্তরটা একটু কঠিন। কারণ তুমি যখন কী করছো সেইটার দিকে নজর দিবে, তখন তুমি বেশি পরিশ্রম করে থাকলে সফলতা আসবেই। আর কম করলে নাও আসতে পারে। তাহলে কি গোল একদমই দরকার নাই? আসলে ব্যাপারটা সেরকম না, গোল অবশ্যই দরকার। তবে মূল বিষয়টা ফোকাসের ব্যাপারে। ফোকাস কোথায় করছো, সেটা বড় ভূমিকা পালন করে। বস্তুত একটা winner এবং একটা loser এর গোল একই। কিন্তু তাদের সিস্টেম ভিন্ন বলে তারা একে অপরের থেকে আলাদা। তোমার ফোকাস যদি ম্যাথ অলিম্পিয়াডে গোল্ড মেডেল জেতা হয়ে থাকে তবে খুব বড় রকমের সম্ভাবনা আছে যে ম্যাথ অলিম্পিয়াডে গোল্ড জেতার পর তুমি ম্যাথে আগের মতো তেমন একটা মনযোগ দিবে না। আর তোমার ফোকাস যদি সিস্টেম এ হয়, অর্থাৎ কয়টা প্রবলেম সলভ করেছো, কতটুকু পড়াশোনা করলে, কেমনভাবে দিন কাটালে ইত্যাদি জিনিসে হয়, তবে তুমি ম্যাথ অলিম্পিয়াডে গোল্ড না পেলেও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ম্যাথ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ পাবে। তার একটা কারণ তুমি প্রতিটি প্রবলেম সলভ করার পরই খুশি হতে পারছো, আর এই খুশি হওয়ার দরুন তুমি বেশি পরিমাণে আগ্রহী হয়ে উঠছো! কিন্তু ম্যাথ অলিম্পিয়াডে গোল্ড মেডেল জেতার আশায় কাজ করে থাকলে গোল্ড না পাওয়া পর্যন্ত তোমার মধ্যে সন্তুষ্টি কাজ করবে না বলে তুমি তেমন আগ্রহ তেমন একটা পাবে না, যতটা পেতে সিস্টেম এর দিকে নজর দিলে। বস্তুত, goal set করে নেওয়ার পর সঠিকভাবে সিস্টেম ঠিক করার নির্দেশনা আসলে সিস্টেম এর দিকে নজর দিতে বলা ছাড়া কিছুই না। সিস্টেম এর দিকে নজর দেওয়া মানে কোনো লক্ষ্য ছাড়া খাপছাড়া ভাবে কাজ করতে থাকা নয়, সিস্টেম এর দিকে নজর দেওয়া মানে goal এর জন্য কী কী করতে হবে সেটা নির্দিষ্ট করে প্রসেস এর দিকে ফোকাস করা। এত কিছুর পরও এটা কাউকে অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ থেকে নিরুৎসাহিত করার জন্য খুবই দূর্বল একটা কারণ। কিন্তু তোমার জন্য যদি উপরের ৫টা পয়েন্টের যেকোনো একটা সত্য হয়ে থাকে, তবে এই point কে অনেক বড় রকমের কিছু একটা হিসেবে ধরে নিতে হবে।

দিনশেষে, তোমার সততা, আদর্শ, ভালো কাজগুলোর কেউ ভাগ নিতে পারবে না। তোমার মেধা থাকলে কেউ সেটা চুরি করতে পারবে না। তুমি অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করতে পারলে না বা ভালো করতে পারলে না, তার মানে এই না যে তোমার মেধা নাই। এখনও সাহিত্যের উপর কোনো সেই রকম কোনো প্রতিযোগিতা দেখা যায় না। তোমার যদি সাহিত্যে আগ্রহ থাকে, তুমি যদি ভালো লেখালেখি পারো, তুমি কি মেধাবী নও? সফলতার ৮৫% নির্ভর করে তোমার আচরণের উপর, আর বাকি ১৫% নির্ভর করে শিক্ষার উপর। অলিম্পিয়াডে তুমি যে অবস্থানেই থাকো না কেনো, তোমাকে হতে হবে নিরহঙ্কার, নির্ভেজাল। তবেই তুমি হবে খাঁটি।

Post a Comment

1 Comments

Lemme know if you have any doubt.